মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

রেজু খাল

কক্সবাজারের উখিয়ার রেজু নদীতে রাবার ড্যাম স্থাপন করা হলে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি হবে। এতে কমপক্ষে ১০ হাজার কৃষি পরিবার উপকৃত হবে। এ নদীর পানি ব্যবহার করে শুষ্ক মৌসুমে অনাবাদী থাকা কয়েক হাজার একর জমি চষাবাদের আওতায় আনা যাবে। এমন অভিমত এলাকার হাজারো কৃষকের।
মিয়ানমারের ওয়ালাদং পাহাড় থেকে রেজু নদীর উৎপত্তি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন ও উখিয়ার রতœাপালং, রাজাপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নের বুক চিরে প্রায় ২২ কিলোমিটার আঁকা বাঁকা পথ পেরিয়ে এ নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এক সময় রেজু নদীতে নিয়মিত জোয়ার ভাটা  হত, চলচল করত ছোট বড় ডিংগী নৌকা ও মাছ ধরার জাহাজ। তৎ সময়ে রেজুনদীর সাথে মিশে যাওয়া রাজা পালংয়ের দোছড়ি খাল, পিনজির ছড়া খাল, রতœাপালংয়ের শহীদ জিয়া খাল, হলদিয়া পালংয়ের ধুরুম খালী খাল, মরিচ্যা খাল পানিতে ভরে যেত। নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা রেজুর পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ ও বিভিন্ন সবজির চাষ করত। এখন কেবল তা সোনালী অতীত। বর্ষা মৌসুমে রেজু নদী পানিতে টইটুম্বুর ও খরস্রোতা থাকলেও কালক্রমে এ নদী মরা খালে পরিণত হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে স্বপ্নের এ নদীতে বিন্দু পরিমাণ পানি থাকেনা। তখন নদীর বুকে শিশুরা খেলার উৎসবে মেতে থাকে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, রেজু নদীর মিলন স্থলে রাবার ড্যাম স্থাপন করা হলে মরিচ্যা খাল, ধুরুমখালী খাল, শহীদ জিয়া খাল, দোছড়ি খাল, পিনজির ছড়া খাল সহ সবকটি ছড়া ও খাল পানিতে ভরে যাবে। কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে এসব ছড়া খালের পানি ব্যবহার করে অনাবাদী থাকা শত শত একর জমি চাষাবাদ করতে পারবে। এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকার জমিতে সারা বছর সবজি চাষ ও নদীতে মাছ ধরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী করা সম্ভব হবে। কৃষকদের অভিমত, এখানকার ১ একর জমিতে ৪০ মন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কমপক্ষে ৫ হাজার একর জমি অনাবাদী থেকে যায়। রেজু নদীর পানি ব্যবহার করে এসব পতিত জমিতে চাষাবাদ করে কমপক্ষে ২ লাখ মন ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে সরকারী ভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে অনেক বেসরকারী সংস্থা রেজু নদীতে রাবার ড্যাম স্থাপনে এগিয়ে আসারও সম্ভাবনা রয়েছে।